ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ভারতসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে চাল আমদানি সীমিত করতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নথির বরাত দিয়ে দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন জানিয়েছে, স্থানীয় কৃষক ও প্রক্রিয়াজাতকারীদের সুরক্ষায় বিশেষ ‘সেফগার্ড’ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইইউ। এরই অংশ হিসেবে এমন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
যদিও এরই মধ্যে ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) ২৩টির মধ্যে ১১ অধ্যায় নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। এর পরও এ উদ্যোগকে ‘এক দরজা বন্ধ করে আরেক দরজা খোলার মতো’ পরিস্থিতি বলে অভিহিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইইউ কাউন্সিল ও পার্লামেন্ট বাসমতিসহ অন্যান্য চাল আমদানির ওপর ‘স্বয়ংক্রিয় সেফগার্ড মেকানিজম’ চালুর বিষয়ে নীতিগত একমত হয়েছে। ১ ডিসেম্বর উভয় পক্ষ ট্যারিফ রেট কোটা (কম শুল্কে নির্দিষ্ট পরিমাণ আমদানি) ব্যবস্থার মাধ্যমে এ সেফগার্ড ব্যবস্থায় রাজি হয়।
নথি অনুযায়ী, ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় চাল আমদানিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা দিলে এ ব্যবস্থা কার্যকর হবে। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমদানির ওপর এমএফএন শুল্ক (সাধারণ ও সর্বনিম্ন বৈষম্যহীন শুল্কহার) আরোপ করা হবে, যেন ইইউর স্থানীয় বাজার সুরক্ষিত থাকে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আইনটি ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের ১২ নভেম্বরের এক নোট অনুযায়ী, ইইউ ১৫ লাখ টন চাল আমদানি করতে পারে, যার বেশির ভাগ আসবে ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার ও কম্বোডিয়া থেকে। দেশগুলো সব ধরনের চাল ও বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়াজাত কিছু পণ্যের ওপর শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ভোগ করে।
আন্তর্জাতিক চাল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নোটে মানবাধিকার লঙ্ঘন, শিশুশ্রম ও ইইউ নিষিদ্ধ কৃষি রাসায়নিক ‘ট্রাইসাইক্লাজোল’-এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগও উল্লেখ রয়েছে।